টেস্ট সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতায় চরম ভরাডুবির পর ব্যাটসম্যানদের কল্যাণে প্রথম ওয়ানডেতে ২৭৮ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই টাইগারভক্তরা স্বপ্ন দেখেছিলেন, এবার ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

সাফল্য এনে দেবেন বোলাররা। তবে ঘটলো ঠিক উল্টোটা। একেবারে নির্বিষ বোলিং করেছেন টাইগার বোলাররা। এর পুরো ফায়দা লুটেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা-কুইন্টন ডি কক। তাদের ব্যাটে বয়েছে রানের স্রোত। এতে রেকর্ড গড়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে প্রোটিয়ারা।বাংলাদেশের দেয়া ২৭৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই রুবেলকে বাউন্ডারি মেরে শুরু করেন ডি কক। শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত থেকেছে। তাতে জোরালো সমর্থন দিয়েছেন আমলা। তাতেই ১০ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার উড়ন্ত জয় নিশ্চিত হয়েছে।

এ জয়ের পথে একাধিক রেকর্ড গড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিনা উইকেটে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড গড়েছে দলটি।ওয়ানডেতে রান তাড়া করতে নেমে বিনা উইকেটে জয়ের রেকর্ডটি এত দিন ছিল ২৫৫ রানের। গেলো বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়ে ইংল্যান্ড। সেই রেকর্ড টিকল মাত্র ১৫ মাস।এক জুটিতেই অসংখ্য রেকর্ডের মালা গেঁথেছেন ডি কক ও আমলা। গড়েছেন দেশের ইতিহাসে সেরা উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড।  অবশ্য আগের জুটিতেও ছিলেন আমলা। তবে সঙ্গী ছিলেন রুশো। ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জোহানেসবার্গে ২৪৭ রানের জুটি গড়েন তারা। এদিন তাদের ছাড়িয়ে গেছেন আমলা-ডি কক। গড়েছেন ২৭৯ রানের জুটি।তাদের একের পর এক রেকর্ডের পালায় পেছনে পড়েছে ২০ বছরের পুরনো রেকর্ডও। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে সেরা উদ্বোধনী জুটি ছিল ২২৫ রানের। ১৯৯৭ সালে নাইরোবিতে এই জুটি গড়েন কেনিয়ার দিপক চুদাসামা ও কেনেডি ওটিয়েনো। সেটিও ছাড়িয়ে গেছেন ডি কক ও আমলা জুটি।এই নিয়ে সব দেশ মিলিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২শ’ রান এল চারবার। আগের তিনবারের দুই বার ছিল শ্রীলঙ্কান জুটি, একবার কেনিয়ার।শেষ পর্যন্ত ১৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন ডি কক। ১৪৫ বলে ২১ চার ও ২ ছক্কায় এই মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন তিনি। অপর প্রান্তে ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন আমলা। ১১২ বলে ৮ চারে এই দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মাস্টার ব্লাস্টার।এর আগে কিম্বার্লির ডায়মন্ড ওভালে টস জিতে প্রথমে  ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৭৮ রান করে বাংলাদেশ। লিটনকে নিয়ে ম্যাচের গোড়াপত্তন করতে নেমে দারুণ শুরু করেন ইমরুল। উদ্বোধনী জুটিতে করেন ৪৩ রান। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে রাবাদার বলে স্লিপে ডু প্লেসিসকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন (২১)।এরপর ওয়ানডাউনে নামা সাকিবকে নিয়ে খেলা জমানোর চেষ্টা করেন ইমরুল। তারা বেশ আশা জাগাচ্ছিল। তবে ভালো খেলতে খেলতে হঠাৎই থেমে যান ইমরুল (৩১)। প্রিটোরিয়াসের বল গ্ল্যান্স করতে গিয়ে ডি কককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।ইমরুলের পর মুশফিককে নিয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সাকিব। তবে সেই যাত্রায় থেমে যান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার (২৯)। ইমরান তাহিরের বলে স্লিপে আমলার তালুবন্দি হয়ে ফেরেন তিনি।সাকিব ফিরলে মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন মুশফিক। তারা এগুচ্ছিলেনও বেশ। দু’জনে বাংলাদেশকে বড়  স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে ফিফটি তুলে নেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। তাকে যোগ্য সহযোদ্ধার মতো সমর্থন দিতে দিতে থেমে যান মাহমুদুল্লাহ (২৬)। দলীয় ১৯৫ রানে প্রিটোরিয়াসের বলে মিলারের হাতে ক্যাচ ফেরেন মিস্টার কুল।মাহমুদুল্লাহর বিদায়ের পর ক্রিজে এসেই ঝড় তোলেন সাব্বির। তবে সেই ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দলীয় ২৩৭ রানে রাবাদার বলে প্যাটারসেনর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাংলাদেশ হার্ডহিটার (১৯)।একে একে টপ অর্ডারের সবাই বিদায় নিলেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন মুশফিক। তুলে নেন লড়াকু সেঞ্চুরি। ১০৮ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় তিন অঙ্কের ঘর স্পর্শ করেন তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। মিস্টার ডিপেন্ডেবলের শতকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল টাইগাররা।তবে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। রান তোলার সময়ে নাসির মাঠে নেমে চেষ্টা চালালেও তা কার্যকর হয়নি। তিনি ফেরেন ১১ রান করে।পরে মুশফিককে সমর্থন যুগিয়ে রান তোলার চেষ্টা করেন অভিষিক্ত সাইফউদ্দিন। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২৭৮ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। একেবারে ইনিংসের শেষ বলে থামেন সাইফউদ্দিন (১৬)। অপরপ্রান্তে ১১০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন মুশফিক।দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বোলিং আক্রমণের কর্ণধার রাবাদা নেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট। ২ উইকেট নেন প্রিটোরিয়াস।

Advertisements