দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বের শেষ রাউন্ডে একুয়েডরকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ভাগ্য নিজেদের হাতেই রেখেছিল আর্জেন্টিনা। অন্য ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে চিলি হেরে যাওয়াতে আর কলম্বিয়া-পেরু ড্র হওয়ায় তৃতীয় হয়ে সরাসরিই তাই ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে উঠে যায় হোর্হে সাম্পাওলির দল।


একুয়েডরের রাজধানী কিটোতে বাঁচামরার ম্যাচের ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। লম্বা বাড়ানো বল ধরে সতীর্থকে হেডে পাস দিয়েছিলেন রোমারিও ইবাররা। বল ফেরত পেয়ে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপ ভাগ্য নিজেদের হাতে রাখতে হলে আর্জেন্টিনার তখন কমপক্ষে দুই গোল করতে হতো।

মেসির নৈপুণ্যে সমতা ফেরাতে দেরি হয়নি আর্জেন্টিনার। দ্বাদশ মিনিটে বাঁয়ে আনহেল দি মারিয়াকে বল বাড়িয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড। বল ফেরত পেয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই বাঁ পায়ের টোকায় জালে পাঠান তিনি।

আট মিনিট পর একক প্রচেষ্টায় আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। ডিফেন্ডারদের ভুলে বল পেয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও অনেক কিছু করার বাকি ছিল। বল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডি-বক্সে ঢুকে উপরের বাঁ-কোন দিয়ে কোনাকুনি শটে জালে পাঠান পাঁচবারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার।

বিরতির পর শুরুর দিকে বার বার আক্রমণে উঠে অতিথিদের চাপে রেখেছিল একুয়েডর। তবে হ্যাটট্রিক করে যেন সব অনিশ্চয়তার অবসান ঘটালেন মেসি।

বল পেয়েছিলেন প্রায় ৪০ গজ দূরে। সামনে ছিলেন প্রতিপক্ষের তিন খেলোয়াড়। বল নিয়ে এগিয়ে পায়ের জাদু আর ক্ষিপ্রতায় একজনকে ফাঁকি দিলেন আরেকজন বল বিপদমুক্ত করার আগেই লবে একটু এগিয়ে থাকা গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে বল পাঠালেন জালে।

অনেকেই বলেছিল এটা হতে যাচ্ছে মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক জবাবটা তোলা রেখেছিলেন যেন এই ম্যাচের জন্য।

Advertisements