জিনাত আলী, বয়স ২০ বছর। অন্যদের চেয়ে সে একটু আলাদা। তার বয়সের একজন তরুণের উচ্চতা কত হতে পারে? পাঁচ ফুট, অথবা কিছুটা বেশি। অথচ

জিনাতের উচ্চতা আট ফুট ছাড়িয়ে গেছে। দিন দিন বেড়েই চলছে তার উচ্চতা। শুধু তা-ই নয়, তার ডান পা-টি বাম পায়ের চেয়ে দুই ইঞ্চি লম্বা।

তার শরীরের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ব্রেন টিউমারের কারণে শরীরের হরমোন পরিবর্তন হয়ে এমনটি হয়েছে। এর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

জিনাত আলী বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাশের গর্জনিয়া এলাকার বর্গাচাষি আমির হামজার ছেলে।

ছেলের এই অবস্থার ব্যাপারে বাবা আমির হামজা জানান, জিনাত আলীর বয়স যখন ১০ বছর তখন থেকে এই রোগ ধরা পড়ে। এর পর থেকে শুধু লম্বা হচ্ছে তার শরীর। সেই সাথে ক্ষুধা বাড়তে থাকায় প্রচুর খাদ্য গ্রহণ করতে হচ্ছে জিনাত আলীকে। ছেলের ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

জিনাত আলীর মা সাফুরা বেগম জানান, ছেলের শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে একবার চকরিয়ার মালুমঘাট হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, তার ব্রেন টিউমার হয়েছে। এ কারণে হরমন পরিবর্তন হয়ে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে শরীরে নানা পরিবর্তন হচ্ছে। এক আমেরিকা প্রবাসীর মাধ্যমে জিনাত আলীকে ঢাকায় নেয়া হলেও সেখানে চিকিৎসকেরা অপারেশন করতে ১২ লাখ টাকা লাগবে বলে জানান। পরে জিনাত আলীকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে জিনাত আলী বাড়ি থেকে খুব একটা বের হয় না। বের হলেই তার দিকে সবাই চেয়ে থাকে। ২০ বছর বয়সেই তার এখন উচ্চতা প্রায় আট ফুট। উচ্চতা বাড়ছেই। এর ফলে দুই পায়ের মধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাঁটতে গিয়েও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এ দিকে ছেলের চিকিৎসাব্যয় ও অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ নিয়ে চিন্তায় আছেন তার মা-বাবা। খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

আমির হামজা জানান, যে প্রবাসী তার ছেলেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন তার ঠিকানাও এখন হারিয়ে গেছে। কিন্তু চিকিৎসার রিপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্রও তার কাছে রয়ে গেছে। এখন ছেলের চিকিৎসাও করানো যাচ্ছে না।

Advertisements