টানা ১০ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর চলতি বছরের ১২ই মে বিয়ে করেন মিলা ও বৈমানিক পারভেজ সানজারি। তবে বিয়ের ১৩ দিনের মাথায় মিলার কাছে প্রকাশ পায় তার স্বামী একাধিক নারীর সাথে সম্পর্কে লিপ্ত। আর এই খবর এবার নিজের ফেসবুক পেইজে সরাসরি প্রকাশ করলেন মিলা।

মিলার দেয়া স্ট্যাটসটি ছবিসহ তুলে ধরা হল-

হ্যাঁ আমাদের ডিভোর্স হয়েছে। আমরা ১০ বছর সম্পর্কের পর বিয়ে করেছি। কিন্তু আমাদের বিয়ের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় আমি জানতে পারি আমার স্বামীর একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ক্রমাগত আমার সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন যখন আমরা সম্পর্কে ছিলাম এবং বিয়ের পর ও সে একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক রেখে আমার সাথে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পরও যে মানুষটি আমার সাথে নিজের সততা বজায় রাখতে পারেনি তার সাথে আর বসবাস করা আমার পক্ষে সম্ভব না। যে স্বামী নিজের নববধূর সাথে প্রতারণা করে সে স্বামী কোনদিনও ভাল কিছু পাওয়ার যোগ্যতা রাখেনা বলে জানান মিলা।

এখানে আমি শিল্পী বা সেলিব্রেটি হওয়ার কারণে এমন সেটা কোন বিষয় নয় বরং এটি প্রত্যেক স্ত্রীর তার  স্বামীর কাছে দাবি থাকে যেন তার স্বামী স্ত্রীর প্রতি ন্যূনতম শালীন হয় এবং স্ত্রীকে সম্মান করে।

আমি মানুষ হিসেবে এটি মেনে নিতে পারিনা। পৃথিবীর কোন স্ত্রী এটি মেনে নিতে পারবেনা যে তার স্বামী বিয়ের পর আরও নারীর সাথে একাধিক সম্পর্কে জড়িত।

কাজেই আমি এখন নতুনভাবে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে চাই এবং আমি সঙ্গীত জগতে ফিরবো। কারণ আমার জীবনের সবচেয়ে ভালোবাসার জায়গা আমার ভক্তরা এবং তাদের মাঝেই আমি আবার ফিরতে চাই যারা এত বছর পরও আমাকে ভুলে যায় নি।

তবে আমি আমার বিয়ের সম্পর্ক এখনও রক্ষা করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি কেননা ১০ বছরের একটি সম্পর্ক গড়ার পর আমি বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু তার প্রতারণা আমাকে হার মানতে বাধ্য করেছে।

সবকিছু চেষ্টা করার পর আমি ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্স এর এমডি মি. মামুনের সাথে কথা বলেছিলাম এবং তাকে বলেছিলাম তিনি যাতে আমার স্বামীকে বুঝাতে পারেন যে আমাদের একটি সামাজিক অবস্থা আছে এবং এমন লজ্জাজনক কাজ করে তা যাতে ধ্বংস না করে ।

এমডি বলেছেন যে তিনি তার সাথে কথা বলবেন এবং সেই এয়ার হোস্টেস এর নাম জানতে চেষ্টা করবেন যার সাথে আমার স্বামীর অভৈধ সম্পক ছিল।

তিনি আমাকে ধৈর্য্য বজায় রাখার জন্য বলেছিলেন। যা আমি করেছি .. কিন্তু কিছুই বদল হয়নি !!

আমি কেবল তার কাছ থেকে মানসিক নির্যাতনই পাইনি ,মাঝে মাঝে আমি শারীরিক নির্যাতনের ও শিকার ছিলাম এবং অবশেষে ভাবলাম যথেষ্ট হয়েছে এবং উপলব্ধি করেছিলাম যে আমি আর কোনও নির্যাতনের শিকার হতে পারবো না, বিশেষ করে যেখানে অনেক তরুণ মেয়েরা আমাকে একটি আদর্শ মডেল হিসাবে দেখে। আমার ভাগ্য আমার নিজের হাতে নিতে হবে এবং এই দু:স্থ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি আমার পরিবারকে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছিলাম এবং তারা আমাকে উত্তরা থানায় নিয়েছিল যেখানে আমি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (২০০৩ সালে সংশোধিত) -এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করি এবং পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

সমাজের কোন নারী বা পুরুষই এমনভাবে বসবাস করতে পারবেনা।

আমি আমার ভক্ত, অনুসারী, আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন সকলকেই ধন্যবাদ জানাই আমার সাথে থাকার জন্য।

milar divorce 2

Advertisements