নোবেলের জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে বসে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, অনেকে বলেন চীন আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, রাশিয়া আমাদের বন্ধু, তারা রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে গেছেন বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাদের বিপক্ষে গেছেন, তার পরও তিনি নোবেল পাওয়ার আশা করছেন এটা আমাদের ভাবতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে খেলাফত মজলিস আয়োজিত ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান ও গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় করনী’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা নোবেলের কাছাকাছি আছেন। অথচ জাতিসংঘের অধিবেশনে একটা প্রস্তাবও পাশ করতে পারলেন না, তার পরেও এটা আমাদেরকে বিশ্বাস করতে হচ্ছে। নোবেলের জন্যই তিনি লন্ডনে বসে আছেন, পারলে মনে হয় সেটা নিয়েই বাংলাদেশে প্রবেশ করবেন। এজন্য মনে হয় অপেক্ষা করছেন।

প্রধান বিচারপতি প্রসঙ্গে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, প্রধান বিচারপতি আমাদের রাজনীতি ভাবাপন্ন মানুষ না। তিনি আওয়ামী ভাবাপন্ন মানুষ। সারা জীবন তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে জয়গান করেছেন। সর্বশেষ সপ্তাহ দুয়েক আগেও তিনি বলেছিলেন শেখ মুজিবের জন্ম না হলে তিনি প্রধান বিচারপতি হতে পারতেন না। কারা তাকে প্রধান বিচারপতি করেছিল বেগম জিয়া, ২০ দল? কি কারনে তিনি ছুটিতে আছেন মিডিয়াতে সবটুকু আসে নাই। কিন্তু স্যোসাল মিডিয়াতে এসেছে কে কি করেছে। সবাই জানে সবাই দেখছে কি ভয়ঙ্কর একটা ব্যাপার সুস্থ্য মানুষ ঘরের মধ্যে আড়ালে চলে যায়। এমন একটি সরকারের কাছে আমরা খাদ্য, বাসস্থান, নিরাপত্তা চাচ্ছি, সন্ত্রাসীদের কাছে কোন মানবতা থাকে না। এই সন্ত্রাসীকে সরাতে হবে। এই অনির্বাচিত গুণ্ডাতন্ত্রের সরকারকে বিদায় করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রথম বিবৃতি আসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, এই নির্যাতিত মানুষদেরকে আশ্রয় দিন। ২০ দলের পক্ষ থেকে তিনি এ কথা বলেছিলেন। সেই সময়ে যদি করা হত তাহলে এত মানুষ মারা যেত না এটা আমলে নেয়া হয়নি। তখন বর্ডার সিল করার কথা ভেবেছে সরকার ফিরিয়ে দেয়ার কথা ভাবা হয়েছে, পুশব্যাক করা হয়েছে, যার ফলে নৌকা ডুবে অনেকেই মূত্যু বরণ করেছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মো: ইছাহাকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টির(জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, সাংবাদিক মাহবুব উল্লাহ, সংগঠনের মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদির প্রমুখ।

Advertisements