দেহের বাড়তি ওজন কমাতে গিয়ে ব্যায়াম ও খাওয়া কমানো প্রচলিত পন্থা। তারপরও যাদের ওজন কমছে না তাদের জীবনযাত্রার প্রতি নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের রোগনির্ণয় কেন্দ্র ‘হেলদিয়ান’য়ের জ্যেষ্ঠ পরামর্শদাতা ওয়ালিয়া মুর্শিদা হুদা এবং ‘লাইফলাইন ল্যাবরেটির’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যাঞ্জেলি মিসরা।

* খাদ্যাভ্যাসে সম্ভবত স্বাস্থ্যকর উপাদানের মিশ্রণ নেই। ওজন কমানোর আদর্শ খাদ্যাভ্যাসে চাই পরিমিত পরিমাণে সকল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান এবং যতটা সম্ভব কম ক্যালরিযুক্ত খাবার।

* একবেলা না খেয়ে থাকা আর পরের বেলার গলা ডুবিয়ে খাওয়া অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এতে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

* ব্যায়ামের মাধ্যমে ক্যালরি খরচ করে এসেই যদি পেট পুরে খাওয়া ‍শুরু করেন তবে কষ্টের পুরোটাই বৃথা যাবে। কারণ, এসময় ক্ষুধা বেশি অনুভূত হয়, ফলে যতটুকু ক্যালরি ঝরিয়েছেন তারও বেশি আবার গ্রহণ করে ফেলতে পারেন।

* যাদের ‘হাইপোথাইরয়ডিজম’ আছে অর্থাৎ যাদের থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে গেছে তাদের ওজন সহজে কমে না।

* ‘পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ (পিসিওডি)’তে আক্রান্ত হলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে ওজন বাড়তে থাকে এবং কমানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

* মানসিক চাপগ্রস্তদের ওজন কমাতে অনেক বেগ পেতে হয়, যা মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। এর কারণ হল মানসিক চাপের জন্য দায়ী হরমোন ‘কর্টিসল’য়ের অত্যধিক নিঃসরণ এবং মানসিক চাপ কমাতে মজাদার কিন্তু অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া।

* নিয়মিত ব্যায়াম করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে প্রতিদিন ব্যায়ামাগারে গিয়ে ব্যায়াম করলেন ঠিকই, অফিসে এতে টানা কয়েক ঘণ্টা বসে থাকলে ওজন কমানো কষ্টকর হয়ে যাবে।

* রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকা ওজন কমানোর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

* অতিরিক্ত মদ্যপানও ওজন কমার পথে অন্তরায়। এর একটি বড় কারণ হল, অ্যালকোহল নিজেই দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়ায়।

* ওজন কমানোর প্রতি দৃঢ় প্রতীজ্ঞাবদ্ধ হওয়া ভালো। তবে অতিরিক্ত নয়। কারণ ওজন কমানোর চিন্তায় নিজেকে অভুক্ত রাখলে অস্বাস্থ্যকর মুখরোচক খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়বে।

* পেশির ঘনত্ব যাদের কম, তাদের ওজন কমানো দুঃসাধ্য। তাদের উচিত আগে পেশি গঠন করা, পরে ওজন কমানো।

* হরমোনভিত্তিক ওষুধ, হতাশা ও অ্যালার্জির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ সেবন করা অবস্থায় ওজন কমানো অত্যন্ত কঠিন।

Advertisements